দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় যাচ্ছে কর্ণফুলী টানেলের বিলাসবহুল ‘সাততারা’ রেস্টহাউস

  • মো: নাজমুল হোসেন ইমন, চট্টগ্রাম
  • 08 Jul 2026, 02:43 PM
দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় যাচ্ছে কর্ণফুলী টানেলের বিলাসবহুল ‘সাততারা’ রেস্টহাউস ছবি: ডিসিভি
ad
চট্টগ্রামে ​কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিলাসবহুল ‘সাততারা’ মানের অতিথিশালা বা রেস্টহাউসটি অবশেষে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্মাণের পর তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ খালি পড়ে থাকা অতিথিশালাটি বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনার জন্য ২৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হচ্ছে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) এর জন্য দরপত্র বা টেন্ডার আহবান করেছে।
​সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৩ জুলাই টেন্ডার জমা নেওয়ার শেষ দিন। এ থেকে পাওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্য থেকে সর্বোচ্চ দরদাতাকে অতিথিশালাটি পরিচালনার চূড়ান্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে।

সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের কথা মাথায় রেখে আনোয়ারা প্রান্তে অত্যন্ত বিলাসবহুল অতিথিশালাটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট আয়তনের আধুনিক সুসজ্জিত বাংলোটিতে রয়েছে ছয়টি ভিভিআইপি কক্ষ এবং সামনে একটি দৃষ্টিনন্দন সুইমিংপুল। এই মূল অতিথিশালা ছাড়াও প্রকল্প এলাকায় একটু ছোট ৩০টি অতিথিশালা নির্মাণ করা হয়েছে।
​প্রকল্পের মাঝপথে এই অতিথিশালা বা ‘সার্ভিস এরিয়া’ যুক্ত করায় পুরো টানেল প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা বেড়ে যায়। তবে নির্মাণের তিন বছর পার হলেও এটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

সেতু কর্তৃপক্ষের দাবি, এত বড় ও বিলাসবহুল স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল তাদের নেই। ফলে বছরের পর বছর এটি অব্যবহৃত থেকে লোকসান বাড়িয়েছে।
​১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দেশের প্রথম আন্ডারওয়াটার টানেলটি এখন অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, টানেলটি দিয়ে দৈনিক ১৭ হাজার ২৬০টি যানবাহন চলাচল করার কথা থাকলেও বর্তমানে চলছে মাত্র তিন হাজার ৮৭৮টি, যা লক্ষ্যমাত্রার সাত ভাগের এক ভাগ। যানবাহন চলাচল থেকে দৈনিক গড়ে আয় হচ্ছে ১১ লাখ ২২ হাজার টাকা।
বিপরীতে টানেলটি সচল রাখতে দৈনিক ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৩ লাখ টাকা। বর্তমান সরকারের আমলে খরচ কমিয়ে ২৩ লাখে নামানো হয়েছে, এর আগে দৈনিক পরিচালন ব্যয় ছিল প্রায় ৩৭ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত টানেলটি দিয়ে ৩৭ লাখের কিছু বেশি গাড়ি পারাপার হয়েছে, যা থেকে মোট রাজস্ব অর্জিত হয়েছে ১০৬ কোটি টাকা।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা প্রান্তে পারকি খালের পাশে প্রায় ৭২ একর জায়গাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে সার্ভিস এরিয়াটি। এতে বাংলো ও রেস্টহাউস ছাড়াও রয়েছে টানেলের একটি রেপ্লিকা, আধুনিক সম্মেলন কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হেলিপ্যাড, মসজিদ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচিডিগ্রি নিয়ে একটি জাদুঘরও রয়েছে। পুরো কমপ্লেক্সের জন্য এক হাজার ১৮২ টন ক্ষমতার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

টানেলের রেস্টহাউস এলাকা থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে আনোয়ারা পারকি সৈকতের পাশে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণ করছে। ১৩ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এখানে ১০টি সিঙ্গল কটেজ, চারটি ডুপ্লেক্স কটেজ এবং একটি তিনতলাবিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ভবনসহ কৃত্রিম হ্রদ ও শিশুপার্কের সুবিধা থাকবে। টানেল নির্মাণের সময় এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ রজব আলী জানান, জনবল সংকটের কারণে অতিথিশালাটি এত দিন চালু করা যায়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য ২৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হচ্ছে। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হলে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে এটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

Comment