ইদানীং মেডিটেশন বা ধ্যান আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, যদিও বিষয়টি নতুন কিছু নয়। সুপ্রাচীনকাল থেকেই মানুষ মেডিটেশনের চর্চা এবং পঠনপাঠন করে আসছে। এবং আত্মিক ও আধ্যাত্মিক কল্যাণ ও প্রশান্তিতে সাম্প্রতিককালে মেডিটেশন আরও গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হচ্ছে। অতীতে মেডিটেশন শেখার কেন্দ্রগুলো কেবল খানকাহ ও আধ্যাত্মিক গুরুদের সান্নিধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
ফলে খুব অল্প সংখ্যক মানুষই এর সুযোগ পেতেন; তবে যাঁরা পেতেন,তাঁদের জীবনে এর প্রভাব ছিল অপরিসীম।বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ ও মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকজন ব্যক্তিত্ব মেডিটেশনের চর্চাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসেন। তখন থেকেই এক বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে মেডিটেশন গভীর আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে। কিন্তু সেই চর্চা ছিল মূলত কেবল শারীরিক ও মানসিক কল্যাণের জন্য; সেখানে আধ্যাত্মিক শান্তির বিষয়টি স্পষ্টভাবে অনুপস্থিত ছিল। মানুষ যেহেতু মূলগতভাবেই এক আধ্যাত্মিক সত্তা,তাই প্রতিটি মানবহৃদয়ে আধ্যাত্মিক প্রশান্তির এক চিরন্তন তৃষ্ণা লেগেই থাকে।
হৃদয়ের সেই সুপ্ত তৃষ্ণা মেটাতে ‘সুফি মেডিটেশন’ নামক বহুল প্রশংসিত গ্রন্থ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন খাজা ওসমান ফারুকী। তাঁর এই বই যেন তৃষ্ণার্ত মানুষের কাছে এক পাত্র সুশীতল পানি, তমসাবৃত পথে প্রদীপের উজ্জ্বল আলো, কিংবা তীব্র দাবদাহে এক চিলতে শীতল সমীরণ। তাঁর উদ্ভাবিত সুফি মেডিটেশন মেথড কোর্স মানসিক ও আধ্যাত্মিক আবিষ্কারের এক আলোকবর্তিকা।
অনলাইন ও অফলাইনে পরিচালিত এই কোর্স থেকে হাজারও মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। এছাড়াও তিনি ‘সুফি মাইক্রোমাইন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’,‘সুফি হিলিং’ ‘সুফি ইকোনমিক্স’ এবং ‘সিররুল কুরআন উইথ মুরাকাবা’র মতো বিভিন্ন আধ্যাত্মিক কোর্স পরিচালনা করছেন,যা মানুষের জীবনে বয়ে নিয়ে আসছে আত্মিক রূপান্তর এবং অপরিসীম কল্যাণ। তিনি মানুষের নফস ও ক্বলবকে ‘নফসে মুতমায়িন্নাহ’ (প্রশান্ত আত্মা) এবং ‘ক্বলবে সালিম’-এ (বিশুদ্ধ অন্তর) রূপান্তরিত করার এক মহান ব্রতে নিয়োজিত আছেন, যা দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জাহানের জন্যই পরম কল্যাণকর।
খাজা ওসমান ফারুকী বহু কালজয়ী গ্রন্থের প্রণেতা। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে সুফি মেডিটেশন, আত্মার বিজ্ঞান,আত্মার নকশা,কুন ফায়া-কুন,সুফিনামা,সুফি সাইকোলজি, অস্তিত্বের আদিম সুর এবং সিররুল কুরআন। অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় লিখিত এই বইগুলো আধ্যাত্মিক জ্ঞানের এক সমৃদ্ধ ভান্ডার। খাজা ওসমান ফারুকীর আরেকটি অসামান্য অবদান হলো ‘সুফি স্পিরিচুয়াল ফাউন্ডেশন’। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে তিনি একটি মানবিক ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সেমিনার, সেম্পোজিয়াম ও একাডেমিক আলোচনার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমে খাদ্য বিতরণ এবং অসচ্ছল রোগীদের ওষুধ সরবরাহ করা তাঁদের অন্যতম প্রধান সেবাধর্মী কাজ।
বৈশ্বিক কোভিড-১৯ মহামারিকালে এই ফাউন্ডেশন দুস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য, ওষুধ ও নানা সহায়তা পৌঁছে দিয়ে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। মানবিক সব কর্মকাণ্ডের গুণে আজ এই ফাউন্ডেশন সর্বজনবিদিত।আজ খ্যাতিমান লেখক,সুফি মেডিটেশন মেথডের উদ্ভাবক,আধ্যাত্মিক গুরু ও প্রখ্যাত মানবহিতৈষী খাজা ওসমান ফারুকীর শুভ জন্মদিন।
আমার বিশ্বাস,এই লেখাটি তাঁর সামগ্রিক পরিচয়কে এক নতুন ও পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরবে। তাঁর এই জন্মলগ্নে,সুফি মেডিটেশন হিলিং-এর উদ্ভাবককে নতুন করে আবিষ্কারের এ এক বিনীত অর্ঘ্য।
লেখকঃ উপ-পরিচালক,
শহীদ
জিয়াউর
রহমান
মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতাল,
বগুড়া।
