চাঁপাইনবাবগঞ্জে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।গ্রাম উন্নয়ন কেন্দ্র (গাক) চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্পে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দুই শতাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। শনিবার (১৮ জুলাই) শহরের নামো শংকরবাটি ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে রোগীদের বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চশমা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ছানি আক্রান্ত রোগীদের অপারেশনের জন্য বাছাই করা হয়েছে।
ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজ, ভিশন ইনিশিয়েটিভ, অরবিস এবং পিকেএসএফের সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বিভিন্ন ধরনের চোখের রোগ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। যেসব রোগীর ছানি অপারেশন প্রয়োজন হয়েছে, তাদের গাক চক্ষু হাসপাতাল, বগুড়ায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া, ওষুধ ও চশমার খরচও বহন করবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। তিনি বলেন, দৃষ্টিশক্তি মানুষের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। অনেক মানুষ অর্থের অভাবে সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন না। এ ধরনের উদ্যোগ প্রান্তিক মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো মানবিক কার্যক্রমে এগিয়ে এলে অন্ধত্ব প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ। ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গ্রামের অনেক মানুষ দীর্ঘদিন চোখের সমস্যায় ভুগলেও চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। তাদের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সভাপতির বক্তব্যে গাক, বগুড়ার সিনিয়র পরিচালক ড. মো. মাহবুব আলম বলেন, অন্ধত্ব প্রতিরোধে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা জরুরি।
গাক দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, প্রান্তিক মানুষের কাছে উন্নতমানের চক্ষু চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমানোই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা নেওয়া রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ ও চশমা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানে নামো শংকরবাটি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাহমিনা খাতুন, গাকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় শিক্ষাবিদ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
