চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিবাহ এখনো একটি বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোপনে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে দেশের বাল্যবিবাহপ্রবণ জেলাগুলোর অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি ব্র্যাক জরিপে জেলায় বাল্যবিবাহের হার ৬৫.২ শতাংশ বলে উঠে আসে। এছাড়া জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর সাম্প্রতিক তথ্যেও জেলার উচ্চ বাল্যবিবাহ প্রবণতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দারিদ্র্য, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, কন্যাসন্তানকে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার মানসিকতা, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগ—এসব কারণেই বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের নজর এড়াতে রাতের আঁধারে বা দূরবর্তী এলাকায় গোপনে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
তবে আশার খবরও রয়েছে। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলাকে ইতোমধ্যে "বাল্যবিবাহমুক্ত উপজেলা" হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসন ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে সেখানে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রচারণা এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণ ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।
সমাজকর্মীরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিত করা, পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমেই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাদের মতে, প্রতিটি বাল্যবিবাহ রোধে পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়; এটি মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যু, অপুষ্টি, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পথেও বড় বাধা। তাই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
