পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এবারো ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে ঈদযাত্রায় সড়ক দুটিতে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলেও যানজটের কোনো শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা (উত্তর) ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রুহুল আমিন সোহেল।
পৌরসভার ব্যাংক কলোনি মহল্লার বাসিন্দা জহির হোসেন বলেন, লোকাল এবং দূরপাল্লার গাড়িগুলো পাকিজার কাটার দুই পাশেই মূল লাইনে আড়াআড়ি করে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে মুহূর্তের মধ্য পেছনে গাড়ির লাইন পড়ে যায়। একই অবস্থা রেডিও কলোনি এলাকায়ও। এ ছাড়া সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের অনেক সময় মূল লাইনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে সড়কে যানবাহনের ধীরগতি সৃষ্টি হয়। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এবং সবাই নিয়ম মেনে চলাচল করলে সড়কে যানজটের কোনো শঙ্কা থাকবে না।
এদিকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকায় ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চলমান নির্মাণকাজের কারণে সড়কের কিছু অংশে খানা খন্দের সৃষ্টি হলেও ঈদকে সামনে রেখে সেখানে ইট ফেলে সাময়িক সংস্কার করা হয়েছে।
শ্যামলী পরিবহনের চালক আব্দুল হালিম বলেন, এখন পুরোপুরিভাবে ঈদের ছুটি শুরু না হওয়ায় সড়কে তেমন সমস্যা নেই। তবে ঈদের আগে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে কিছুটা ভোগান্তি হতে পারে। কিন্তু পুলিশ ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে সমস্যা কিছুটা কম হবে বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রবিবার সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শেষ কর্মদিবস হলেও ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে সাভার-আশুলিয়ার তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে এখনো ঈদের ছুটি শুরু হয়নি। তবে সোমবার থেকে পর্যায়ক্রমে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি শুরু হবে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) রোস্টার অনুযায়ী, রবিবার (২৪ মে) থেকে কারখানাগুলোতে ছুটি শুরু হওয়ায় ঢাকা ছাড়ছেন ১০৮টি কারখানার শ্রমিক, যা মোট কারখানার প্রায় ছয় শতাংশ। সোমবার ২৫ মে ছুটি পাবে ৬৬৪টি কারখানা বা ৩৭ শতাংশ। এ ছাড়া ২৬ মে সবচেয়ে বেশি ৭১৩টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা হবে, যা মোট কারখানার ৪৩ শতাংশ। আর ২৭ মে ছুটি পাবে আরো ২৫১টি কারখানা, যা প্রায় ১৪ শতাংশ।
সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শাহজাহান জানান, রাজধানী ঢাকা থেকে সীমিত পরিসরে মানুষজন ঈদে গ্রামের বাড়ি উদ্দেশে যাওয়া শুরু করলেও তার কোনো প্রভাব এখনো সাভার অঞ্চলে পড়েনি। তবে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত ৬৫০ জন সদস্য মোতায়েনসহ ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি আমাদেরও নজরদারি রয়েছে। সড়কে কোনো ধরনের যানবাহনের দুর্ঘটনা ঘটলে বা বিকল হয়ে পড়লে তা সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার জন্য রেকার প্রস্তুত রয়েছে।