শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আইনি সহায়তা সহজলভ্য করতে হবে

  • ডিসিভি: ডেস্ক
  • 24 Aug 2026, 04:30 PM
শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আইনি সহায়তা সহজলভ্য করতে হবে ছবি: ডিসিভি
ad
শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আইনি সহায়তা সহজলভ্য করতে হবে এবং দ্রুত ও কার্যকর আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। আজ ২৪ আগস্ট, নারী মৈত্রী আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় এই মতামত ব্যক্ত করেন বক্তারা। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সহিংসতা, নির্যাতন ও শোষণের শিকার শিশুদের জন্য সহজ, দ্রুত ও কার্যকর আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে Strengthening Community and Institutional Response to child sexual Abuse And Exploitation Project প্রকল্পের আওতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিশুদের জন্য বিদ্যমান আইনি সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও সহজসাধ্য, শিশুবান্ধব ও কার্যকর করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার আইনজীবী ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সালমা আলী। সভাপতিত্ব করেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি।

সভায় জানানো হয়, কোনো শিশু সহিংসতা, নির্যাতন বা যৌন হয়রানির শিকার হলে অনেক সময় শিশু ও তার পরিবার ঘটনা রিপোর্ট করতে আগ্রহী হয় না। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসে নিরাপত্তাহীনতা, সামাজিক চাপ ও ভয়, আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতা, কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ করতে হবে সে বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণার অভাব এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনিশ্চয়তা। অনেক শিশু ও পরিবার জানে না, সহিংসতার শিকার হলে তারা কোথায় যোগাযোগ করবে, কী ধরনের আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং অভিযোগ করার পর শিশুর নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে।

সভায় অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরী ও যুব প্রতিনিধিরাও তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। তারা বলেন, “শিশুদের জন্য আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের ও পরিবারের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে অভিযোগ করার প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় সেবা, আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় সম্পর্কে সহজ ভাষায় তথ্য শিশু ও পরিবারকে জানানো প্রয়োজন।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন,“সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আমরা যারা শিশুদের নিয়ে কাজ করছি, তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। শিশুরা যেন তাদের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারে এবং কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার হলে কোথায় ও কীভাবে সহায়তা চাইতে হবে, সে বিষয়ে তাদের এবং তাদের পরিবারকে জানাতে হবে।” 

তিনি শিশু সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, সেবা প্রদানকারী এবং কমিউনিটি পর্যায়ের সংগঠনগুলোর মধ্যে আরও সমন্বিত আলোচনা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে শাহীন আকতার ডলি বলেন, “সকলে মিলে শিশুর জন্য কাজ করবো—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। শিশুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হলে শুধু আইন ও নীতিমালা থাকলেই হবে না; বরং শিশু ও পরিবারের কাছে সেই সেবা সহজলভ্য করতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর শিশুরা যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য বা ভয় ছাড়াই আইনি সহায়তা পেতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে “

নারী মৈত্রীর এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—কোনো শিশু সহিংসতা বা নির্যাতনের শিকার হলে সে যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় এবং ভয়, অনিশ্চয়তা কিংবা প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে যেন তার পরিবার অভিযোগ করা থেকে পিছিয়ে না যায়। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি শিশুবান্ধব বিচার ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (BLAST)-এর প্রতিনিধি, জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আইনজীবীবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সার্ভিসের প্রতিনিধি এবং নারী মৈত্রীর কিশোর-কিশোরী ও যুব ক্লাবের সদস্যরা। বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবী, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, শিশু ও যুব প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সভাটি শিশুদের জন্য আইনি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপের সুযোগ তৈরি করে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নারী মৈত্রী প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা হুদা।

Comment