ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে বিএমডিএর বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, বিভিন্ন খাল-নদী ও ফসলি মাঠ পরিদর্শন শেষে কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএমডিএ চেয়ারম্যান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে রহনপুর এলাকায় মহানন্দা নদী থেকে পানি উত্তোলন করে খালে সংরক্ষণ এবং শুষ্ক মৌসুমে তা কৃষিজমিতে সেচের কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।
তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার কয়েকটি উপজেলার কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক সম্মতিও পাওয়া গেছে। আগামী অর্থবছর থেকে এর কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
হাসান জাফির তুহিন আরও বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচব্যবস্থা থেকে বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি সেচপাম্প পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষিতে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি সেচব্যবস্থায় বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে।
তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমের পানি ধরে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন করা হবে। সংরক্ষিত সেই পানি শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে ব্যবহার করা হবে। ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান, রাজশাহী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুনুর রশীদসহ সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
